মো. কামাল হোসেন, লক্ষ্মীপুর :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৮নং চরবংশী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিউদ্দিন সোহাগ, পিতা: মো. মোবারক মাস্টারের বিরুদ্ধে টুনির চরের জমি নিয়ে নীল নকশা, মালিকানা জমি ও সরকারি ভূমি দখল এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর সোহাগ টুনির চরকে কেন্দ্র করে একটি নীল নকশা তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার পিতা মোবারক মাস্টারের মুখে থাকত শুধু দোয়া, আর প্রথম দোয়াতেই দখল হয়ে যায় অসহায় মানুষের মালিকানা জমি।
ভুক্তভোগীরা জানান, নিজেদের বৈধ জমি ফেরত পেতে তারা দিনের পর দিন বিভিন্ন নেতার দ্বারে দ্বারে ও আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন। এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমি ফেরত পাওয়ার আশায় রয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সোহাগ তার আত্মীয়-স্বজনের দোয়া ও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাসজমিও দখল করেছেন। তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রচার করেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, চর এলাকায় যারা কৃষিকাজ ও গরু-মহিষ পালন করেন, তাদের তিনি নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন। চাঁদা না দিলে কৃষিকাজ ও গবাদি পশু পালন করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। স্থানীয়দের দাবি, দখলকৃত এসব জমি কৃষকদের কাছে বর্গা দিয়ে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় করেন সোহাগ। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে সোহাগের রোষানলে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সোহাগের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার এ রকম কিছু জানা নেই।
অথচ, সোহাগ কর্তৃক জমি দখলের শিকার ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ক্যামেরায় তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
এদিকে সোহাগ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি সভাপতি হলে পুরো চরবংশী ইউনিয়ন অনিরাপদ হয়ে পড়বে।
অবিলম্বে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ ও দখলকৃত জমি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।
