নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পরও ‘এমপি’ পরিচয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ ও প্রচারের ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ঋণখেলাপিসংক্রান্ত মামলায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করেন আপিল বিভাগ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও আদালতের নির্দেশে তাঁর নির্বাচনী ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একটি সাংগঠনিক সভার ব্যানারে তাঁর নামের পাশে ‘এমপি’ পদবি ব্যবহার করা হয়েছে। সভায় আসলাম চৌধুরী নিজেও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরী ঘোষিত সীতাকুন্ড উপজেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সদস্যসচিব মো. মোরসালিন, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, সদস্যসচিব সালে আহম্মদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
যে কারণে বাতিল হয় প্রার্থিতা: আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। পরে আনোয়ার সিদ্দিকী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে গেলে ২৭ জানুয়ারি তাঁদের রিট আবেদন খারিজ হয়। এরপর হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল বিভাগের অনুমতি চান। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট এবং আনোয়ার সিদ্দিকী ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট পান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী শুনানি শেষে ৩০ জুন আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগের কথাও প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে ‘এমপি’ পরিচয় ব্যবহার নিয়ে: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের পরও আসলাম চৌধুরীকে সংসদ সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যানার তৈরি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই পরিচয় ব্যবহার করা জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে সভায় অংশগ্রহণের বিষয়টি এক রকম, আর সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া অন্য বিষয়। আদালতের সিদ্ধান্তের পর তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সুযোগ না থাকার খবর প্রকাশিত হলেও সাংগঠনিক সভার ব্যানারে ‘এমপি’ পদবি ব্যবহারের ঘটনা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আসলাম চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা উচিত। আদালতের সিদ্ধান্তের পরও কেন তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়।
