- খানাখন্দ আর তীব্র যানজটে অসহনীয় দুর্ভোগ যাত্রীদের
মোঃ লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্) : অর্থায়ন বন্ধের ফলে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত দুই বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় এই মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। এতে জনদুর্ভোগে পরিনত হয়েছে এই মহাসড়কটি। তীব্র যানজটে প্রতিদিন
ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে দ্রুত কুমিল্লার ৪০ কিলোমিটার অংশে ছয় লেন কাজ শুরু ও সংস্কারের দাবী জানিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছেন কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক
ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আমিরুল কায়ছারের এই স্মারক লিপি জমা দেয়া হয়। স্মারক লিপিতে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১৩টি দাবী তোলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ দ্রুত শুরু করা। ছয়লেন কাজ শুরুতে বিলম্বিত হলে, দ্রুত সড়কের দুই পাশে ছয় ফিট করে সম্প্রসারন করতে হবে। এই সড়কে চলাচলকারী সকল চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে, লাইসেন্সবিহীন কেউ গাড়ী ড্রাইভ করতে পারবে না। সকল গাড়ীর ফিটনেস থাকতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ী চলতে পারবে না। সড়কে হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করা এবং প্রতিদিন বিভিন্ন স্টেশনে চালকদের লাইসেন্স চেক করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন চালক ধরা পড়লে আবশ্যই আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের বড় ষ্টেশন বা বাজারগুলিতে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশিং এর ব্যবসা করতে হবে। গাড়ীর স্পিড লিমিট নির্ধারণ করতে হবে। সড়কের নিকটবর্তী বাজার, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে। সড়কের দুই পাশের একেবারে নিকটবর্তী ফুটপাত দখল করা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
সকল স্টেশনে যাত্রী ছাউনি তৈরি করতে হবে। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে কোম্পানিগঞ্জ পর্যন্ত সকল প্রকার অবৈধ জিপি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। সিএনজি চালকদের নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে ড্রাইভিং করতে বাধ্য করা। প্রয়োজনে তাদেরকে নিবন্ধন ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং অনভিজ্ঞ চালকদের সিএনজি চালাতে না দেয়া। ব্যস্ততম স্টেশনে ফুট ওভারব্রীজ তৈরি করা। রাস্তার দুপাশে ও ডিভাইডারে বৃক্ষ রোপন করা। ১০০ মিটার পরপর বিভিন্ন সচেতনতামূলক বাণী ও নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড দিতে হবে। কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়ীয়া রোডে পূর্বের মতো লোকাল বাস চালু করা।
ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন থেকে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার মধ্যদিয়ে যাতায়েত করছে। বর্তমানে এই মহাসড়কটি মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। গত দুই বছরে প্রায় এই মহাসড়কে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই সহস্রাধিক। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে মহাসড়কটি সংস্কার করে একটি নিরাপদ মহাসড়ক হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা এই বিষয়ে যেন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ সময় বুড়িচং প্রেসক্লাব সভাপতি ও ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের যুগ্মআহবায়ক কাজী মো. সাখাওয়াত হাফিজ, কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল, মো. জহিরুল কাইয়ুম, মো. মোস্তফা হোসাইন খান, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোরশেদ আলমসহ ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আমিরুল কায়ছার বলেন, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তবে হঠাৎ করে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। আমরা বিকল্প অর্থায়নের খুঁজে রয়েছি। নতুন বিনিযোগকারী পেলে দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।
