এ.বি.এম.হাবিব : নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মিত ইটের দোকানঘর ও নামাজের জায়গা ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পারইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান জাহিদ।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পারইল ইউনিয়ন পরিষদ প্রঙ্গনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মিত ইটের দোকানঘর ও নামাজের জায়গা বা ওয়াক্তখানা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে একটি মিথ্যা তথ্য দিয়ে কয়েকটি অনলাইনপোর্টালে সংবাদ প্রচার করা হয় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে। যাহা অন লাইন পোর্টাল ইনডেফিনেন্টেও প্রকাশিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান জাহিদ দাবি করেন- পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা আইন বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ের গ্যারেজের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাদের লোকজন বৃহস্পতিবার আবারও দোকানঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করলে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা দোকানঘরের ইটের দেয়াল ভেঙে দেয়। আর নামাজের ওয়াক্তা খানায় কোন ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটেনি।
লিখিত বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ বলেন, গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় অসত্য সংবাদ প্রচার করা হয়েছে যা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন যার তিব্র নিন্দাও জানান তিনি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবীর যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে তাও সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও কমিটির অন্যরা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহার যোগসাজসে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এলাকার একজন ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের গ্যারেজের জায়গায় ইটের একটি দোকানঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছিল এবং বিদ্যালয়ে কোন অ্যাসেম্বিলি হয় না বলে এলাকার লোকজন আমাকে বার বার মৌখিকভাবে অভিযোগ দিচ্ছিলেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি গত ০৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাই। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্যদের কাছে ঘর নির্মাণ ও অ্যাসেম্বিলির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা কিছুই বলতে চাচ্ছিল না। এরপর বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে ও লিখিত অভিযোগ করলে, বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বিলি না হওয়ার প্রতিবাদ করলে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজেরা বাঁচতে আমার উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা, আমাকে হয়রানি করা এবং সমাজে আমার মানক্ষুন্ন করার জন্য নানান মিথ্যা অভিযোগ তুলছে তারা।
দ্রুত বিদ্যালয়ের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ ও অ্যাসেম্বিলি না হওয়ার বিষয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের সময় স্থানীয় মেহেদী হাসান, আসলাম হোসেন, এরশাদ হোসেন, আনারুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তোলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, না তার কাছ থেকে কোন চাঁদা চেয়ারম্যান চায় নাই এবং চেয়ারম্যান এসব ভাংচুর করে নাই বলে জানান। তিনি বলেন,আমরা স্কুলের কমিটি ও শিক্ষক মিলে একটি সিদ্ধান্ত নিই দোকারঘর করার। কিন্তু ছাত্ররা সাইকেল আর মোটরসাইকেল রাখার জায়গা চায়,ছাত্রদের মাঝে এমন কথা হতেই চেয়ারম্যান এসে এসব দেখে চলে যাওয়ার পর, ছাত্ররা অর্ধনির্মিত দোকানঘর ভেঙে দেয়। ওয়াক্ত খানার জায়গায় কোন ক্ষতি বা ভাংচুর হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতগুলো ছাত্রদের মধ্যে কে বা কাদের হাত বা কিছু লেগে একটু প্লাসটার উঠে গেছে সেটা কোন বিষয় নয় বলে জানান। এসব দোকানঘর নির্মাণে উপজেলার কোন কর্মকর্তার অনুমতিও তিনি নেন নাই বলে জানান।
বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, দোকানঘর ভাংচুরের দিনে আমি উপস্থিত ছিলাম না, তার বাচ্চা অসুস্থ তিনি তার বাচ্চার কাছে ছিলেন বলে জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াক্তখানার কোন কিছুই হয় নাই, শুধু দোকানঘরের পশ্চিম ওয়ালটি ভাঙ্গা দেখা যায়। এ বিষয়ে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরা জানান,তাদের সাইকেল,শিক্ষকদের মটরসাইকেল গুলো রাখার জায়গা ভেঙে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করায়,সকল মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ক্লাসরুমের বারান্দায় রাখেন সবাই। এতে তাদের চলাচলের খুবই অসুবিধা হতে থাকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বার বার অভিযোগ দিলে, কোন কথা না শোনার কারণে তারা বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যানকে অভিযোগ করে। চেয়ারম্যান স্কুলে এসে, দেখে চলে যাওয়ার জন্য তারা মনে করেছে, কেহই তাদের অসুবিধার কথা শুনছে না। এই ভেবে তারা নিজেরাই সাইকেল,মোটরসাইকেল রাখার জায়গায়, অর্ধনির্মিত দোকানঘরটি ভেঙে দিয়েছে কিন্ত ওয়াক্তের জায়গায় কিছু করে নাই এবং সেটি এখনো সঠিক আছে এবং সঠিক থাকবে বলে জানায়।
