মোঃ লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্) : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ভারতের সংসদের উভয় কক্ষ—লোকসভা ও রাজ্যসভা। দেশটির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। খবর দ্য হিন্দু ও নিউজ এইটিন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ভারতের সংসদের উভয় কক্ষ—লোকসভা ও রাজ্যসভা। দেশটির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। খবর দ্য হিন্দু ও নিউজ এইটিন।
দিনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও দেশটির উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন খালেদা জিয়ার জন্য শোকবার্তা পাঠ করেন। তার প্রতি সম্মান জানাতে রাজ্যসভা সদস্যরা নীরবতা পালন করেন।
শোকবার্তা পাঠ করতে গিয়ে রাধাকৃষ্ণন বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিন দফায় এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এ সংসদ প্রয়াত খালেদা জিয়ার পরিবার, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে শোক প্রকাশ করছে।’
অন্যদিকে নিম্নকক্ষ লোকসভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
রাজ্যসভা ও লোকসভার যৌথ অধিবেশনে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রথাগত ভাষণের পর উভয় কক্ষে খালেদা জিয়া, সদ্য প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং পাঁচজন প্রয়াত সাংসদের ওপর শোক প্রস্তাব পেশ করা হয়। ওই পাঁচজন হলেন শালিনী পাতিল, ভানু প্রকাশ মির্ধা, সত্যেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম চৌধুরী, সুরেশ কালমাদি ও কবীন্দ্র পুরকায়স্থ। এর মাধ্যমে বার্ষিক বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয়। এরপর সংসদের উভয় কক্ষই ওই দিনের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাবশালী যে নেতারা রাজনৈতিক জীবনে আঞ্চলিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছেন তাদের স্মরণে এ শ্রদ্ধা নিবেদন ভারতের সংসদীয় ঐতিহ্যের অংশ। একাধিকবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পথচলা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। তাই ভারতের পার্লামেন্টে এ ধরনের শোক প্রস্তাব গ্রহণ করার বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ৮০ বছর বয়সে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার ও কিডনি জটিলতা, চোখের রোগ ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত ৩১ ডিসেম্বর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তার স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান শোকবার্তা পাঠান। তখন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মতো ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি লিখিত শোকবার্তা খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন তিনি।
খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার ভারত সফর করেছেন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন।
