মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলে টানা শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরপর দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন রেকর্ডের পর তাপমাত্রা যৎসামান্য বাড়লেও শীতের দাপট কমেনি। বরং কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠছে।
গতকাল রোববার (০৪ জানুয়ারি) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে টানা শীতের দাপটে সবচেয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে শনিবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দু’দিনই এই তাপমাত্রা ছিল দেশের সর্বনিম্ন।
এর আগে গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ও শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে। শুক্রবার ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও শনিবার ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ামের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
উপজেলায় শনিবার রাত থেকেই কুয়াশার জাল ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। রোববার ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল প্রকৃতি। সকালে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঠলেও ক্ষীণ আলো কুয়াশাকে ভেদ করে গায়ে উষ্ণতা জাগাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা সরে যায়। রোদের দেখা মেলে। কিন্তু থেকে যায় শীতের আবহ। ফলে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যহত হয়। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোকে। প্রতিদিন বেনাপোল বাজারে শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বহর বসলেও, তা কমে এসেছে। এখন সকাল- বিকেলে শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে। আর সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হচ্ছে অসহ্য শীতের কাঁপুনি। রাস্তায় ভ্যান অটো রিক্সা কম থাকায় অফিস থেকে ঘরে ফেরা মানুষগুলোর অনেককেই ধীর পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে আরও বাড়ে শীতের তীব্রতা।
উপজেলা বাগআচড়া এলাকার ইজিবাই চালক তবিবুর রহমান জানান, শীতে রিকসা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে শীত ও বাতাসে শরীর অবশ করে দেয়। আর যাত্রীও পাওয়া যায় না। কিন্তু রোজগার না হলে তো খাবার জুটবে না। তাই গ্রাম থেকে আটো নিয়ে বাজার আসতে হচ্ছে।
শার্শা এলাকার শ্রমিক ইজ্জত আলী বলেন গত চারদিন কাজ পাননি। শনিবার আধবেলা কাজে যে সামান্য টাকা পেয়েছেন, তা দিয়ে বাজারঘাট করে খাবার জুটেছে। কিন্তু আজ কী হবে তিনি জানেন না।
এদিকে, প্রচন্ড শীতের কারণে শুধু গরম কাপড়ে শীত মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। তাই কাঠের টুকরো, কাগজ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ সবখানে আগুনের ওম নেওয়ার চেষ্টার দৃশ্য নজরে পড়ছে। আর ছিন্নমূলের মানুষগুলো বাজার, রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল,স্কুল, কলেজ অফিস- বারান্দায় রাত কাটানো জন্য জুবুথুবু পড়ে থাকতে দেখা যায়।
