খাস আদায়ের নামে ইজারাযোগ্য ঝিনাইদহের ৪৬টি হাটের টাকা হরিলুট!
সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
খাস আদায়ের নামে ঝিনাইদহের ৪৬টি হাটবাজারের টাকা লুটপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র বিক্রি না হওয়ায় জেলার বড় বড় হাটবাজারগুলো কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতারা খাস আদায়ের নামে যতসামান্য টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে বেশির ভাগ টাকা পকেটস্থ করছেন। ফলে সরকার এক বছরের বেশি সময় ধরে রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের স্থানীয় সরকার বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, জেলায় ইজারাযোগ্য ১৯৭টি হাটবাজার আছে। এরমধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৪৫টি, শৈলকুপায় ২৭টি, হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ২৮টি, কালীগঞ্জ উপজেলয় ৩১টি, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১৯টি ও মহেশপুর উপজেলায় ৪৭টি ইজারাযোগ্য হাট রয়েছে।
সুত্রমতে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৪৫টির মধ্যে ৩২টি, শৈলকুপায় ২৭টির মধ্যে ১৯টি, হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ২৮টির ১৯টি, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১৯টির ১২টি ও মহেশপুর উপজেলায় ৪৭টির মধ্যে ৩৭টি হাট বাজার ইজারা প্রদান করা হয়। একমাত্র কালীগঞ্জ উপজেলায় সব হাট বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের স্থানীয় সরকার বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ইজারাকৃত হাট থেকে সরকার প্রতি বছর ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫ টাকার রাজস্ব পায় । এছাড়া ৪টি পৌরসভার ৩৭টি হাট থেকে প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার রাজস্ব পাচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর হাট বাজারগুলো ইজারা প্রদানের জন্য টেন্ডার আহবান করা হলেও পেশাদার কোন হাট ব্যবসায়ী সিডিউল কিনতে পারছে না। রাজনৈতিক পেশীশক্তির দৌরাত্মের কারণে একাধিকবার টেন্ডার আহবান করেও পেশাদার কোন হাট ব্যবসায়ীর কাছে হাট ইজারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জেলার সবচে বড় গরুর হাট গান্না বাজার, মহেশপুরের পুড়োপাড়া, খালিশপুর সাধারণ বাজার, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ পৌরসভা ও সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারসহ ৪৬টি হাট দীর্ঘদিন ধরে খাস আদায় করা হচ্ছে। এতে সরকারী কোষাগারে রাজস্ব কম পড়ছে। বেশির ভাগ টাকা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা দলের নামে রশিদ তৈরী করে ভাগাভাগী করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় জানান, দরপত্র দাখিল না হওয়ায় হাটবাজারগুলো ইজারা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি জানান, হাট ইজারার ১৫% টাকা উপজেলা পরিষদ পায়, সেটাও পাচ্ছে না। ফলে উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে যাচ্ছে।
