শৈলকুপায় প্রতারক নারীর একের পর এক মিথ্যা মামলার অভিযোগ বিএনপি নেতার



সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : শিউলি খাতুন নামে এক ডিভোর্সি নারির প্রতারণার ফাঁদ ও একের পর এক মিথ্যা মামলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শৈলকুপার একটি নিরীহ পরিবার। ইতিমধ্যে ওই নারী বেশ কয়েকটি ধনাঢ্য ও সম্মানী পরিবারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে শৈলকুপা উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সদস্য সচিব খোন্দকার কামরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে শিউলি খাতুনের অসামাজিক কর্মকান্ড, অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা খোন্দকার কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন, তার ছেলে নাজমুলের সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক তৈরী করে আদালতে মিথ্যা মামলা করে। আদালতের মামলাটি পুলিশী তদন্তে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর খারিজ হয়ে যায়। মামলা খারিজ হওয়ার পর প্রতারক শিউলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে একের পর এক মানহানীকর পোষ্ট দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আপোষ করতে চাইলে শিউলি ১০ লাখ টাকা দাবী করে। কিন্তু বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান টাকা না দিয়ে সামাজিক মর্যাদা ও শান্তিশৃংলার জন্য ২০২৫ সালের ৭ মে শিউলির সঙ্গে তার ছেলে নাজুমলের বিয়ে দেন। বিয়ের ৬/৭ মাস পর শিউলি খাতুন ঝিনাইদহে বাসা ভাড়া নিয়ে নাজমুলকে নিয়ে বসবাস করতে থাকে। নাজমুলকে কোন ক্রমেই শৈলকুপায় আসতে দেয় না। শিউলির চলাফেরা ছিল অস্বাভাবিক। কোন আয় ইনকাম না থাকলেও প্রাইভেট কারে চলাফেরা করতে থাকে। কিছুদিন পর দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে শিউলি খাতুন নিজেই ডিভোর্স নিতে প্রস্তাব দেয়। বিএনপি নেতা খোন্দকার কামরুজ্জামান এক লাখ টাকায় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর তার ছেলে নাজমুলকে ডিভোর্স করিয়ে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিউলি খাতুন এক মহা প্রতারক মাদসাক্ত নারী। এর আগেও সে ৫টি বিয়ে করে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে। এখন সে নিজের শরীর নিজেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় ধর্ষনসহ নারী নির্যাতনে মামলা করেছে। কিন্তু তার এজাহারের সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তির প্রচুর গরমিল পাচ্ছে পুলিশ। এই শিউলি বেগমের সঙ্গে আরিফ ও জমজম নামে দুই কথিত সাংবাদিক রয়েছে। তারা তাকে হুমকী দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শৈলকুপার হাটফাজিলপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক এসআই, নৌ বাহিনীর এক সদস্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কচুয়া গ্রামের আব্দুর রব ও রত্নাট গ্রামের বিল্লাল হোসনসহ একাধিক ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারক শিউলি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে শিউলি খাতুন জানান, খোন্দকার কামরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছে তার কোন সত্যতা নেই। আমার একটি মাত্র স্বামী ছিল তার নাম বিল্লাল হোসেন। আমাকে তার ছেলে আমাকে ডিভোর্সের পর ধর্ষন ও অকথ্য নির্যাতন করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন