চট্টগ্রাম নগরীর পাখির হাটে কারও জীবিকা, কারও কষ্টের কারণ


রনজিত কুমার শীল, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ত সড়ক আর যানজটের কোলাহলের মাঝেই সপ্তাহে দুইদিন তৈরি হয় এক ভিন্ন জগৎ। সোম ও বৃহস্পতিবার দুপুর গড়াতেই দেওয়ানহাট মোড়ে বসে পাখির হাট। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে খাঁচাভর্তি পাখির কলকাকলি আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদামে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শুধু নগরের পাখিপ্রেমীরাই নন, বিভিন্ন উপজেলা থেকেও আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। কেউ শখে পাখি পালন করেন, কেউবা ছোট পরিসরে বাণিজ্য করেন। অনেকের কাছে এটি আবার নিছক বিনোদন-রঙিন লাভবার্ড কিংবা বিরল প্রজাতির পায়রা দেখেই সময় কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

হাটের সবচেয়ে আকর্ষণ বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির লাভবার্ড। বর্ণিল পালক, ছোট্ট ঠোঁট আর চঞ্চল আচরণে সহজেই নজর কাড়ে এরা।

কিছু উন্নত জাতের লাভবার্ডেও জোড়া বিক্রি হয় ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকারও বেশি দামে। শখের পাখি পালনে আগ্রহীদের কাছে এসব পাখির আলাদা কদর রয়েছে। পায়রা থেকে টার্কি-বৈচিত্রের সমাহারে এই হাটে রয়েছে নানা জাতের পায়রা। কিং পায়রা ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, লাক্ষা পায়রা ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, সিরাজি পায়রা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া কোয়েল ৭০-৮০ টাকা, দেশি-বিদেশি মুরগি ২০০-২ হাজার টাকা, তিথি মুরগি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং টার্কি মুরগি ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। রয়েছে বিভিন্ন রকমের চিনা হাঁসও। 

আলাদা আকর্ষণ আছে খরগোশের। খাঁচার পাশে দেখা মেলে সাদা-বাদামি খরগোশেরও। বাচ্চা খরগোশের জোড়া ৫০০ টাকা, আর বড় খরগোশ ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। শিশু-কিশোরদের কাছে এরা বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু।

দেওয়ানহাটের পাখির হাট কেবল বেচাকেনার স্থান নয়-এ যেন এক সামাজিক মিলনমেলা। পুরনো বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, নতুন প্রজাতি নিয়ে আলোচনা, পাখির যত্ন ও খাদ্য নিয়ে পরামর্শ-সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে আড্ডাখানা। 

ইরৎফনগরজীবনের ব্যস্ততায় যেখানে মানুষ খুঁজে ফিরে একটু স্বস্তি, সেখানে এই পাখির হাট এনে দেয় প্রকৃতির স্পর্শ। রঙিন ডানায় ভর করে এখানে জমে ওঠে স্বপ্ন, শখ আর সম্ভাবনার এক অনন্য আয়োজন।

পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ হলেও তা তোয়াক্কা না করে ফাঁদ পেতে শিকার করছে এক শ্রেণীর পাখি শিকারি। শিকার করা সেসব পাখিকে বন্দী করা হচ্ছে খাঁচায়। তারপর খাঁচাবন্দি পাখি প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে হাট-বাজারে। এ পাখিগুলো কিনছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা। কারও জীবিকা হলেও বন্দী থাকা পাখি কারও জন্য হয়ে উঠছে কষ্টের কারণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন