নেত্রকোণায় ঝুঁকির মুখে রাজীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়


  • নেই নিরাপদ ভবন, খেলার মাঠ ও স্থায়ী শহীদ মিনার

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রাজীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। নামের সঙ্গে ‘সরকারি’ থাকলেও বাস্তব চিত্র উদ্বেগজনক। জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। নেই খেলার মাঠ, এমনকি নেই একটি স্থায়ী শহীদ মিনারও।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনের দেয়ালে বড় ফাটল, ছাদের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই অনিরাপদ পরিবেশেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস করতে ভয় লাগে, দেয়াল ভেঙে পড়বে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। আরেকজন বলে, তারা নতুন ভবন চায়, নিরাপদে পড়াশোনা করতে চায়। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শৈশবের স্বাভাবিক বিকাশ চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশে যখন শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়, তখন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। স্থায়ী শহীদ মিনারের অভাব তাঁদের কষ্ট বাড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের এমন অবস্থার পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, খেলার মাঠের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এক অভিভাবক বলেন, বাচ্চারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এক শিক্ষক বলেন, ভবনের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, সবসময় দুশ্চিন্তা নিয়ে থাকতে হয়। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মৌলা বলেন, শিক্ষার্থীরা যেমন নিরাপদ নয়, শিক্ষকরা তেমনি ভয়ের মধ্যে আছেন। প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করা হয়, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ বিষয়ে নেত্রকোণা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন