এ,বি,এম,হাবিবুর রহমান : নওগাঁয় হ্যালো নেটওয়ার্ক এর প্রায় ৯ লক্ষ টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক টগরকে গ্রেফতার হয়েছে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, নওগাঁয় আব্দুল জলিল সুপার মার্কেটের "হ্যালো নেটওয়ার্ক" এর পরিচালক ব্যবসায়ী সরদার মেহেদী হাসানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সেল্সম্যান হিসেবে কর্মরত ছিল, মো.আজাদ রহমানে ছেলে মো.রাফিউল হাসান টগর। প্রাশ ৬ বছরের বেশি সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার সুবাদে তাকে বিশ্বাস করছিল পরিচালক মেহেদী হাসান। যার প্রেক্ষিতে প্রতিদিন সে দোকান থেকে মোবাইল ফোন বিভিন্ন দোকানে বিক্রয় করতো এবং প্রতিদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের কাছে হিসাব বুঝে দিতো। কোন কোন দোকানে বাঁকিও রাখতো,সেটার হিসাবও বুঝে দিতো। এমতাবস্থায় গত বছর ২৫ মে টগর হিসাব- নিকাশ বুঝে দিতে গড়িমশি করে এবং বিভিন্ন দোকানে বাঁকীর পরিমান অস্বাভাবিক বেশি দেখাতে থাকে। এতে পরিচালক মেহেদী হাসানের সন্ধেহ হলে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়ে মার্কেটিং এ বের হোন এবং বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখেন,সেলস্ ম্যান টগর যে হিসেব দিয়েছে, তার থেকে ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৫শত ১৫ টাকা বেশি কালেকশন করেছে,কিন্তু সেই টাকা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সরদার মেহেদী হাসানকে বুঝে দেয় নাই। পরবর্তীতে পরিচালক, অন্যান্য কর্মচারী ও হিসাবরক্ষকদের নিয়ে বিষয় গুলো আলাপ করেন এবং প্রতারক টগরকে ডেকে প্রতিষ্ঠানে বসেন। হিসেব-নিকেশ শেষে এক পর্যায়ে প্রতারক রাফিউল হাসান টগর স্বীকার করে, সে তার পরিবারে টাকা গুলো বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ করেছে এবং পরিচালকের কাছে বার বার মিথ্যা হিসাব দিয়েছে। সে প্রতিমাসে সেই টাকা কিছু কিছু করে দিয়ে পরিশোধ করবে বলে অঙ্গিকার করে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না মর্মে, স্বাভাবিক ভাবে চাকরী করবে বলে লিখিত দেয়। পরবর্তীতে প্রতিমাসে তার সেই টাকা গুলো কিছু কিছু করে চাইলে,এই অসুবিধা, সেই অসুবিধার কথা বলে এবং প্রতিবার সামনে মাস থেকে দেবে বলে তালবাহানা করতে থাকে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে সকালে প্রতারক রাফিউল হাসান টগর প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল ফোন প্রায় ১লক্ষ ৩হাজার ১৫০ টাকার মুল্যের ফোন নিয়ে, সেলস্ করার উদ্দেশ্য বের হয়। পরবর্তীতে সুন্ধ্যা হলেও সে ফিরে আসে না এবং তার ব্যবহৃত ফোন গুলোও বন্ধ করে দিয়ে রাখে। পরের দিন ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে জানায়,পরেরদিন শনিবারে একবারে মার্কেটিং করে এসে হিসেব দেবে। কিন্তু পরের দিন থেকে আবারও তার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ একেবারেই বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তার বাবার বাড়ি, শশুরবাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায় না। এভাবে সে প্রতিষ্ঠান থেকে ৮লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৬৫ টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যায়। সে প্রতিষ্ঠানের সাথে সর।বপ্রকার যোগাযোগ বন্ধ রাখে এমন কি মোবাইল ফোনও বন্ধ রেখে পালিয়ে থাকে এবং পুরো নওগাঁ জেলা জুড়ে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সরদার মেহেদী হাসান বাদী হয়ে গত ৬/০৩/২০২৬ ইং তারিখে নওগাঁ সদর মডেল থানায় প্রতারক রাফিউল হাসান টগরকে আসামি করে মামলা করেন।
নওগাঁ সদর থানার পুলিশ জানান, গত ২০/০৩/২৬ ইং তারিখে গোপন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.নিয়ামুল হকের দিকনির্দেশনায় এস আই নুরুন্নবী সঙ্গীয়ফোর্স নিয়ে মহাদেবপুর থানাকে অবহিত করে প্রতারক রাফিউল হাসান টগরকে তার গ্রামের বাড়ী মহাদেবপুর থানার অন্তরগত সোভাপুর ইউনিয়ন থেকে, রাত্রিতে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। পরের দিন শুক্রবারে তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করছেন বলে সদর থানার ওসি নিশ্চত করেছেন। নওগাঁর ব্যবসায়ী মহল এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.নিয়ামুন হককে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
