এ.বি.এম. হাবিবুর রহমান:
নওগাঁয় গৃহবধূ ইয়াসমিন বানু হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের বাবা-মা, বোন, স্বজন ও এলাকাবাসী।
রোববার (৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় নিহত ইয়াসমিনের পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
নিহত গৃহবধূ ইয়াসমিন বানু নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ভরট্র গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের গোয়ালি গ্রামের জমির শেখের ছেলে আকাশের সঙ্গে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী আকাশ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদ করায় ইয়াসমিনকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। ভবিষ্যতে সুখী সংসারের আশায় সব অত্যাচার সহ্য করেও স্বামীর সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন তিনি।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঝে মাঝে বাবার বাড়িতে এলে তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পেতেন বোনেরা। বিষয়টি জানতে চাইলে ইয়াসমিন হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিতেন এবং বলতেন তিনি ভালো আছেন। পরিবারের কেউ কষ্ট পাবে—এই ভয়ে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা কাউকে খুলে বলতেন না।
অভিযোগ করা হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি আবারও স্বামী আকাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা ইয়াসমিনকে মারধর শুরু করে।এ সময় ইয়াসমিনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে তাদের গালিগালাজ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় আকাশ ও তার বাবা,মা। পরে বিষয়টি ইয়াসমিনের পরিবারে খবর দিলে, পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেলে ঘরের ভেতরে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এবং ইয়ামিনের পাষন্ড স্বামী আকাশের বাবা-মা জানায়,তার মেয়ে নাকি গলায় ওরনা দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এলাকাবাসী সহ সকলে ইয়াসমিনের পরিবারদের জানায়,তার মেয়েকে আকাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রচুর মারধর করেছে এবং গলায় ওরনা দিয়ে টাঙ্গিয়েও রেখেছিল তারা।
মানববন্ধনে নিহতের বাবা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমি একজন গরিব মানুষ। মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে মেয়ের বিয়েতে স্বর্ণালংকার বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেনমোহর ছিল। পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় আমার মেয়েকে, জামাই আকাশ ও তার পরিবারের লোকজন শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। শেষ পর্যন্ত তারা নির্যাতন করে আমার মেয়েকে হত্যা করে ফেললো। আমি এর বিচার চাই।”
নিহতের বোন রেসমা খাতুন বলেন, “আমার বোনকে নির্মমভাবে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পর তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চোয়াল ফুলে গিয়েছিল, শরীরে কালসিটে জখম ছিল এবং নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সত্য গোপন করতে পুলিশকে প্রভাবিত করে কৌশলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং থানায় হত্যা মামলা না করে, অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়। পরে থানায় খোঁজ নিয়ে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে বিভিন্ন নম্বর থেকে মামলা না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে,তাদের মামলা নেওয়া হবে না বলে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে মানববন্ধনে ইয়াসমিনের বোন জানান। বাধ্য হয়ে নওগাঁ কোর্টে মামলা করেছেন,কোর্ট থেকে থানায় তদন্ত দিলেও,থানা পুলিশ গরিমসি করছে এবং তা কোন প্রকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। অন্যদিকে আসামিরা বুক ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ প্রশাসন থেকে কোন সহযোগিতাও পাচ্ছে না তারা।
এ সময় নিহতের স্বজনরা ও এলাকাবাসী অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ইয়াসমিন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান উক্ত মানববন্ধনে।
