দুই শিশু সন্তানসহ শেখহাটি গৃহবধূ কাকলীর মানবেতর জীবন যাপন



মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : গৃহবধূ শারমিন সুলতানা কাকলি দুই ছোট শিশু সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে। স্বামী মেহেদী হাসান। তিন বছর টাকা দেয় না। চার মাস খোঁজ নেই। যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের গ্রামে শশুর বাড়ির একটি ঘরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে এই নারীর। ছোট অবুঝ সন্তানের কষ্ট আরো বেশি। তারা বার বার মাকে প্রশ্ন করে আব্বু কোথায়! তাদের সেই সরল প্রশ্নের কোন উত্তর নেই  স্বজনদের কাছে।

রাজগঞ্জ বাপের বাড়ি কাকলির। তার পিতার নাম আলতাফ। পিতার সহায়তায় কোন প্রকারে তার দুই সন্তান নিয়ে দিন কাটছে। কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বললেন, মেহেদী তিন বছর আগে দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া গেছে। ঋণ এবং ধার দেনা করে টাকা জোগাড় করা হয়েছিল।কিন্ত বিদেশে তার কাজ ছিল না। হতে পারে তিনি অবৈধ ছিলেন সেখানে। তবে খোঁজ খবর মিলছিলো। গত চার মাস একেবারেই তার খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না। বেঁচে আছে কিনা তাও বোঝা যাচ্ছে না। একদিকে পাওনাদারদের জোর তাগাদা আরেক দিকে সংসার পরিচালনা, তিনি দুই চোখে অন্ধকার দেখছেন এখন।

মেহেদী ও কাকলীর বড় ছেলে সোয়েব হাসান। সে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। তালবাড়িয়া হাই স্কুলে ও পড়াশুনা করে। সাকিব হাসান ছোট এখনো তার পড়ার উপযুক্ত বয়স হয়নি। এরা মায়ের সাথে অতি বাধ্য হয়ে ছিল। কিন্ত ছোট সাকিবের এখনো বোঝার বয়স হয়নি।

প্রেসক্লাব যশোরে এসে তার শিশু দুই পুত্র দেখিয়ে তিনি বিবেক কে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন 'আমি এখন কোথায় যাবো। কি করে দুই মুঠো ভাত তাদের তিনজনের জুটতে পারে তা ভেবে ভেবে তিনি দিশেহারা।

তিন বছর আগে তার স্বামী ছুটিতে বেড়াতে আসে করোনা চলাকালীন সময়। সাড়ে ৩ মাস ছিলেন। এই সময়ে তার মা বাবাকে এক লাখ টাকা দেয়।  তার ছোট ভাইকে এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেয় কাকলি। কিন্তু তার ভাই টাকা না দেয়ায় এনজির সকল কিস্তি কাকলি পরিশোধ করে। আবার বিদেশ স্বামীকে এনজিও থেকে লোন তুলে দেন এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা। বিদেশে চলে যাওয়ার ৮ মাস পরে শাশুড়ি, দেবর তাকে ভিটা বাড়ি বিক্রির হুমকী দেয়। লোকের কাছে ভিটা বাড়ির জমি ষ্ট্যাম্প করে দুই লক্ষ দশ হাজার টাকায়। ভিটা বাড়ি বাচাতে ষ্ট্যাম্প ফিরিয়ে আনতে এই টাকা সুদে নেন তিনি । ষ্ট্যাম্প ফেরত আনতে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া লাগে। তিন বছর মেহেদী বিদেশে। তিনি বলেন কোন কাজ নেই। বস টাকা দেয়না। তাই পিতার বাড়ি থেকে এনজিও থেকে ঋন নিয়ে তাকে পাঠাতে হয়।  আজ ৪ মাস বিদেশে সে নিখোজ। তার ফোন বন্ধ। তার সাথে কোন যোগাযোগ নাই।

এখন বাচ্চাদের নিয়ে বাচঁতে চান কাকলি। দেশে বিদেশের বাঙালির কাছে তার আর্জি, 'দুটি সন্তানের দিকে তাকিয়ে তাকে বাঁচান। না হলে সন্তান ও মা বাবাকে নিয়ে মরতে হবে। বড় সন্তানের বই কেনা, পোষাক বানাতে হবে। এই পরিবারটির সদস্যরা বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঋনের বোঝা থেকে তাকে বাঁচাতে আর্থিক সহযোগিতার আর্জি তার। এনজিও ঋণ ও সুদ মিলে তিনি বর্তমানে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা দেনা। আর্থিক সহযোগিতার বিকাশ নং:  ০১৮১৩-৭৪৭৩৮৪ অথবা ব্যাংক একাউন্ট নং : শারমিন সুলতানা (কাকলী), ২০৫০১২৫০২০৬৭১৯৭০৭, ইসলামী ব্যাংক, যশোর শাখা, যশোর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন