![]() |
| “বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশনে তরুণী সাকিলা খাতুন; ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি : ডেইলি নিউজ বিডি |
নাজমুল হুদা, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে টানা দুই দিন ধরে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের ধেলাপীর পুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ সাকিলা খাতুন (১৮) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে একই ইউনিয়নের কাছারি বোসনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইসরাফিল ইসলামের ছেলে মোঃ পারভেজ ইসলামের (২৫) বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে পারভেজ ইসলাম সাকিলা খাতুনকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। সে সময় পারভেজ তাকে পড়াতেন। পরে সাকিলা এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পারভেজের পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী সাকিলা খাতুন জানান, পারভেজ ইসলামের সঙ্গে তার প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাকিলা বলেন, “সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক করেছে। এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি তার বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছি। আমি এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”
এ বিষয়ে সাকিলার বাবা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা খুব অসহায় মানুষ। আমার মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় থেকেই ছেলেটি তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে আমার মেয়ে জানায়, ছেলেটি বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। এখন আমার মেয়ে ছেলেটিকে বিয়ে করতে চায়। তাই সে ছেলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করছে।”
অভিযুক্ত পারভেজ ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অভিযুক্তের বাবা মোঃ ইসরাফিল ইসলাম বলেন, “মেয়েটি আমাদের বাড়িতে আসার পরপরই আমার ছেলে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। আমার ছেলে দাবি করছে, তার সঙ্গে মেয়েটির কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। দুই পক্ষ বসে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হবে।”
বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। যেহেতু রমজান মাস চলছে, তাই ইফতারের পর এলাকাবাসী ও দুই পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তরুণীটি অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতেই অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
