যশোরে শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকীকে ঘিরে দেশ বিদেশের ১৭শ’ মুসল্লি ইতিকাফে


মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক হযরত শায়েখ ইব্রাহিম ইসমাইল পান্ডু (শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী) যশোর সদর উপজেলার আশরাফুল মাদারিস মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন। তাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের প্রায় ১৭শ’ মুসল্লি এই ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা গ্রামে অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস মসজিদে পহেলা রমজান থেকে নফল ইতিকাফ শুরু হয়েছে। এবার ইতিকাফের মূল আকর্ষণ দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী, যিনি প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদিস মাওলানা মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব।

তাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, পানামা ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজারহাট-মণিরামপুর সড়কের পাশে চারতলা বিশিষ্ট বিশাল মসজিদ ও আবাসিক ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে আশরাফুল মাদারিস। মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় ও ইবাদতে মশগুল রয়েছেন।

আশরাফুল মাদারিসের হোস্টেল সুপার মাওলানা হাসান ইমাম জানান, ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এই মাদরাসায় ইতিকাফে বসেন শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী। তিন বছর পর আবারও তিনি এখানে ইতিকাফ করছেন। এবার দেশ-বিদেশ থেকে অন্তত ১ হাজার ৬৮০ জন মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮০ জন বিদেশি নাগরিক।

ইতিকাফে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের খেদমতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারিসহ প্রায় ৬শ’ থেকে ৭শ’ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের জন্য সেহরি, ইফতার ও খাবারের ব্যবস্থা করছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এই মেহমানদারি ঈদের পরের দিন পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি নাগরিকদের দেশে অবস্থানের জন্য সরকারি অনুমোদন নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করা হয়। এরপর বিভিন্ন দেশ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ইতিকাফে অংশ নিতে যোগাযোগ করেন।

ইতিকাফ চলাকালে নামাজের আগে দেশ-বিদেশের আলেমরা মুসল্লিদের উদ্দেশে নসিহত পেশ করছেন। ভিন্ন ভাষায় দেওয়া বক্তব্য ও জুমার খুতবা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বাংলায় অনুবাদ করে শোনানো হচ্ছে।

ইতিকাফে অংশ নেওয়া ঢাকার মিরপুরের একটি মাদরাসার পরিচালক হাফেজ সাইদুল হাসান বলেন, “২০২৩ সালেও এখানে ইতিকাফে অংশ নিয়েছিলাম। এখানকার ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ খুবই সুন্দর, তাই এবারও এসেছি।”

রাঙ্গামাটি থেকে আসা মাওলানা মুফতি ওমর আলী বলেন, “মুরব্বিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এখানে এসেছি। দেশ-বিদেশের আলেমদের সান্নিধ্য পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের।”

মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবু হুরাইরা বলেন, “দেশ-বিদেশের মেহমানদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারছি। আমরা সাধ্যমতো তাদের খেদমত করছি।”

বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির কারণে মাদরাসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য সাকলাইন জানান, পহেলা রমজান থেকে এখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং তারা রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন