আব্দুল জলিল (সাতক্ষীরা প্রতিনিধি) সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউট সোটিং জনবল নিয়োগ অর্ধ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো: মোস্তাজুল ইসলাম টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের নিকট থেকে ৫৪ জন প্রার্থী জন্য জনপ্রতি ১ লাখ টাকার বিনিময় কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য রেজুলেশন করে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউট সোটিং জনবল নিয়োগ জন্য দরপত্র আহবান করে প্রথম দফায় গত ১ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ দেওয়া হয় ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ইং। এতে চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, পিমা এ্যাসোসিয়েট লিমিটেড, টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড দরপত্র দাখিল করে। দাখিলকৃত দরপত্রের মধ্যে থেকে টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের নাম রেজুলেশন করে অনুমোদনের জন্য ডিজি অফিসে প্রেরণ করে। কিন্তু উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ না দিয়ে পূণরায় দরপত্র আহবান করে বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য মতাতম দেয়।
মতামতের ভিত্তিতে দরপত্র মুল্যায়নের কোন প্রকার ফলাফল প্রকাশ না করে ২য় দফায় একই জনবলের জন্য দরপত্র আহবান করে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞাপনে দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখে রাখা হয় ১৯ ফেব্রুয়রি ২০২৬ ইং। এ দফায়ও ঐ চার টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, পিমা এ্যাসোসিয়েট লিমিটেড, টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড সকলেই একই দর নির্ধারণ করে দরপত্র দাখিল করে। দাখিলকৃত সকল প্রতিষ্ঠান একই দর দাখিল করলেও কোন প্রকাম লটারী ছাড়া সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো: মোস্তাজুল ইসলাম টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের নিকট থেকে ৫৪ জন প্রার্থী জন্য ৫৪ লাখ টাকার বিনিময় কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য রেজুলেশন করে আবারও অনুমোদনের জন্য ডিজি অফিসে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
দরপত্র দাখিলকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হচ্ছে সে প্রতিষ্ঠানকে প্রথম দফায় বিভিন্ন অভিযোগে বাতিল করা হয়। তারপরও একই প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে জনপ্রতি এক লাখ টাকার বিনিময়ে আবারও রেজুলেশন করে ডিজি অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে। যেটি খুবই দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো: মোস্তাজুল ইসলাম পরিবার খুলনায় টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেই সুত্রে এ প্রতিষ্ঠানটির সাথে এ ধরনের লেনদেন করে বারবার কাজ দিচ্ছেন হিসাব রক্ষক মো: মোস্তাজুল ইসলাম। এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করবেন বলেও তিনি জানান।
দরপত্র দাখিলকৃত আরও একটি প্রতিষ্ঠান পিমা এ্যাসোসিয়েট লিমিটেডও একই ধরনের অভিযোগ করেন। ঘটনার পর থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো: মোস্তাজুল ইসলাম মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ কুদরত-ই-খুদার মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।
