সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে বিশেষ অভিযান: বনজ সম্পদ লুট রুখতে ২ আটক, জব্দ ৯ নৌকা ও বিপুল মধু-কাঁকড়া


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে টানা এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে অভয়ারণ্যে অবৈধভাবে মাছ-কাঁকড়া ও মধু আহরণের সময় দুই বনজীবীকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় ৯টি নৌকাসহ বিপুল পরিমাণ মধু, মোম, কাঁকড়া এবং শিকারি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথক অভিযানে হরিণ শিকারের ১১টি ফাঁদও অপসারণ করা হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন অভয়ারণ্য এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সুন্দরবন থেকে ফেরা বিশেষ আভিযানিক দলের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক।

তিনি জানান, অভিযানে অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বনজ সম্পদ আহরণ রোধে কঠোর নজরদারি চালানো হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা শনাক্ত করা হয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মধু সংগ্রহ এবং মাছ-কাঁকড়া শিকার করে আসছিল।

অভিযান চলাকালে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকার আইয়ুব আলী গাজী (৫৩) ও মো. জোমাত মোড়ল (৬৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি নৌকা, ২১০ কেজি মধু, ১৫ কেজি মোম, ৩০ কেজি কাঁকড়া এবং মাছ-কাঁকড়া ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ফজলুল হক আরও জানান, জব্দকৃত নৌকা ও মালামালের বিষয়ে বন আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পৃথক আরেকটি অভিযানে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি টহল ফাঁড়ির বনরক্ষী ও কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) সদস্যরা যৌথভাবে বন্দুকখালী খালে ফুট পেট্রোলিং চালান। এ সময় হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে পাতা ১১টি ফাঁদ শনাক্ত করে তা অপসারণ করা হয়।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ বনজ সম্পদ আহরণ ও বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

অভয়ারণ্যে ধারাবাহিক এই অভিযানে বন বিভাগের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার ও টেকসই নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি সচেতন মহলের। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন