কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে


আশরাফ আলী, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাওয়াদিঘি হাওরপারের কৃষক আব্দুল্লাহ আল নোমান। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে ধান চাষ করেন। এবছরও ১৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। পরিচর্চা করে ফসলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। কত ইচ্ছে ছিল বোরো ধান ঘরে তুলবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছে আর পূরণ হলোনা তার। অতি বৃষ্টিতে ১৫ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নোমানের মত জেলার অনেক কৃষকের স্বপ্ন এভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। হাড় কাপানো পরিশ্রমের ফসল এখন পানির নিচে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর মৌলভীবাজার জেলায় ৬২ হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী জেলার হাওর অঞ্চলের আবাদ হওয়া ২৭ হাজার ৩শত ৫৫ হেক্টর জমির মধ্যে বোরো ধান কর্তন হয়েছে ২২ হাজার ৫শত ৮৩ হেক্টর জমির। নন হাওর অঞ্চলে আবাদ হওয়া ৩৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির মধ্যে কর্তন হয়েছে ২৩ শতাংশ জমির ধান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলাজুড়ে ১৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলের বোরো ধান রয়েছে ৭৭৪ হেক্টর জমি। সবমিলিয়ে এখন বোরো ধান কর্তনের বাকি রয়েছে ৩১ হাজার ৫শত ৩১ হেক্টর। এছাড়া জেলায় ৬হাজার ১শত ১৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছিল। অতি বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ১শত ৮৪ হেক্টর জমি। এবং আউশের বীজতলা ছিল ৪০১ হেক্টর। বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হেক্টর।


কৃষক আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, ১৫ বিঘা জমির পুরোটাই পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া দুই থেকে আড়াই বিঘা জমির ধান কাটতে পেরেছি। বাকি জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে। বুক সমান পানির মধ্যে বর্তমানে ধান কাটা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার সকল ধান পাঁকা হওয়ায় ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকটে ভোগী। একজন শ্রমিককে তিন বেলা খাইয়ে ৮শত টাকা রোজ দিতে হয়। এরপরও শ্রমিক সংকটের কারণে আমার ক্ষেতের ধান কাটতে পারিনি। অতি বৃষ্টির কারণে ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে আবার ধানের দামও কম। এই ধান চাষ করতে আমার এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকার মতো খরচ হয়েছে।

কৃষক নোমানের মতো জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও রাজনগর উপজেলার কৃষকের। হাওরে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের পানি কমায় জেলার নদনদীর পানি কমছে। জেলার জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকালের চেয়ে পানি কমেছে। এছাড়া আবহওয়া অফিস জানিয়েছে গত ২৫ এপ্রিল থেকে মৌলভীবাজার জেলার ৩৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতা সহ আকষ্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত উজানের এবং নদনদীর পানি কমলে হাওরগুলোতে পানি বাড়ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করার চেষ্টা করতেছি। সত্যিকারের যারা ক্ষতিগ্রস্থ সেই সব কৃষকের তালিকা করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। যাতে করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সরকার থেকে সহায়তা পায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন