আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা মেডিকেলে কলেজ (সামেক) হাসপাতালে কোটি টাকা মূল্যের লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটি বছরের পর বছর নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। র্দীঘ সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা মেসিনটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ফলে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মাইক্রো সার্জারি মাধ্যমে বা পেট কেটে কিডনির পাথর অপসারণে মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে রোগীদের।
খােঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের কিডনি থেকে পাথর অপসারণরে জন্য কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছিল একটি লেজার লেথোট্রিপিস মেশিন। যার মাধ্যমে কোনো প্রকার অপারেশন বা পেট কাটা ছেড়া ছাড়াই কিডনি থেকে পাথর অপসারণ করা যাব।এতে উপকৃত হবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র কিডনি রোগীরা। কিন্তু খাতা কলমে ঠিক থাকলেও ক্রয় করার প্রায় দুই বছর পরে কয়েক দিন ব্যবহারের পর থেকেই বিকল হয়ে পড়ে আছে অত্যাধুনিক এই লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটি। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার রোগীরা।
সামেক হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মাইক্রো সার্জারি মাধ্যমে কিডনির পাথর অপসারণে মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে রোগীদের।
সামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে হাসপাতালে আনা মেশিনটির নাম লেজার লেথিট্রপিসি মেশিন।এর সাথে ছিল ভিডিও ইরোটর রেনসকোপ। এই মেশিনের সাহায্যে মানবদেহের বাইরে থেকে পাথর ভেঙে ফেলা সম্ভব।এর ফলে অপারেশনের ধকল সইতে হয় না রোগীদের। সেই সঙ্গে রোগীদের বাঁচে অর্থ ও মূল্যবান সময়। ২০১৭ সালের দিকে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে মেশিনটি সামেক হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের অভাবে মেশিনটি পড়ে থাকার পর ২০২১ সালে এটি প্রথম চালু করা হয়।এ সময় মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ডাক্তার রুহুল কুদ্দুস মেশিনটি ব্যবহার করে ৭জন রোগীর কিডনির পাথর অপসারণ করেন। এ সময় মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায় ।আজ পর্যন্ত বিকল অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের র্সাজারি বিভাগের ডঃ শরিফুল ইসলাম জানান, এই মেশিনটি চালু থাকলে হতদরিদ্র মানুষদের কাটা ছেঁড়া ছাড়াই সফল ভাবে কিডনি পাথর অপারেশন করা সম্ভব হত। রোগীদের আর বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করা লাগত না। মানুষের ভোগান্তি দূরীকরণে মেশিনটি চালু করা খুবই প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাক্তার রুহুল কুদ্দুস জামান, ২০২১ সালে মেশিনটি চালু করার পর ৭জন রোগীর পাথর ক্রাশ করা হয়েছিল। এরপর মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার কুদরত ই খোদা জানান, মেশিনটি মেরামত করার জন্য অনেক বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি মেরামতের জন্য। তিনি জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
