গোলাম রব্বানী-টিটু,(শেরপুর) প্রতিনিধিঃ “বাবুইপাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই কুড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই| আমি থাকি মহাসূখে অস্ট্রালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে.” | কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটির নায়ক আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির পথে | ঝিনাইগাতীতে আগের মত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা আজ আর চোঁখে পরে না| ঝিনাইগাতীর সীমান্তঘেষা পাহাড়ী এলাকার আনাচে-কানাচে তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা | কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা | খড়ের ফানি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উ”ু তাল গাছে চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করত বাবুই পাখিরা | বাবুই পাখির বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি মজবুত | প্রবল ঝড়ে বাতাসে টিকে থাকে তাদের বাসা | বাবুই পাখির শক্তবুননের এ বাসা টেনেও ছেড়া কঠিন হয়ে পড়ে| বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি| এরা এক বাসা থেকে আর এক বাসায় যায় পছন্দের সঙ্গি খোঁজতে | সঙ্গি পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুই পাখিকে সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে| পুরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষন করার জন্য খাল-বিল ও ডোবায় গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে | এর পর উচু তাল গাছ, নারিকেল গাছ বা সুপারি গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে | বাসা তৈরির অর্ধেক কাজ হলে কাংখিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে দেখায় | বাসা পছন্দ হলেই কেবল পুরো মিলনের কাজ শেষ করে | বাসা পছন্দ না হলে অর্ধেক কাজ করেই নতুন করে আরেকটি বাসা তৈরির কাজ শুরু করে| অর্ধেক বাসা তৈরি করতে সময় লাগে ৫/৬দিন | স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে সময় লাগে ৪দিন| কেননা তখন পুরুষ বাবুই মহা আনন্দে বিরামহীন ভাবে কাজ করে| স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরনা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মত নিপুণ ভাবে বাসা তৈরি করে| স্ত্রী বাবুই ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুষ বাবুই খোঁজতে থাকে আরেক সঙ্গিকে | পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ৬টি পর্যন্ত বাসা তৈরি করতে পারে| অর্থাৎ এরা ঘর সংসার করতে পারে ৬ সঙ্গির সঙ্গে| তাতে স্ত্রী বাবুয়ের না নেই| প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা ফুটে| ৩ সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্চা বাসা ছেড়ে উড়ে যায়| বাবুই পাখির প্রজনন সময় হলো ধান ঘরে উঠার মৌসুম| স্ত্রী বাবুই দুধধান সংগ্রহ করে এনে বাচ্চাদের খাওয়ায় | বাবুই পাখি তাল গাছে বাসা বাধে বেশী| এছাড়া রাতের আধারে পাখি শিকারীদের জালে বাবুই পাখি আটক হয়ে বিক্রি হচ্ছে শহরের পাখি শিকারিদের দোকানে | এ ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: এ,টি,এম ফায়েজুর রাজ্জাক আকন্দ বলেন বাবই পাখি দেখতে অনেক সুন্দর | তাদের আবাসস্থল গাছ পালা না থাকার ফলে দিন দিন পাখিটি বিলুপ্তি হচ্ছে ঠিকই তাদের আবাসস্থল গাছপালা রোপণ করা হলে তারা আবার ফিরে আসবে |
Tags
শেরপুর
