নওগাঁয় কিডন্যাপ হওয়া স্কুল ছাত্রী ১ মাসেও উদ্ধার হয়নি


এ,বি,এম,হাবিবুর রহমান : নওগাঁয় কিডন্যাপেী প্রায় ১ মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও উদ্ধার হয় হয়নি স্কুল ছাত্রী সাফি নাহার (১৫)।

মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার পাতনা গ্রামের মো. আলতাব হোসেনের মেয়ে মোছাঃ সাফি নাহার হাট চকগৌরি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী। পাশের পাড়ার মো.ইয়াছিন সরদারের বখাটে ছেলে রাকিব প্রায় তাকে রাস্তার মধ্যে উক্ত্যক্ত করতো। এবং এই বখাটে যুবক ঐ গ্রাম সহ আশে পাশে আরো ২/৩ মেয়েকেও উক্ত্যক্ত করতো এবং আরো একটি মেয়ের সাথে সম্পর্কও ছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। সাফি নাহার তাকে রাস্তাঘাটে কুপ্রস্তাবসহ উক্ত্যক্ত করার বিষয়ে জানালে তার বাবাকে জানালে, তার বাবা আলতাব, বখাটে রাকিবকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করে দেয়। অন্য দিকে বখাটে রাকিবের সাথে সম্পর্ক থাকা মেয়ের ৩দিন আগে বিয়েও হয়ে যায়। সে সতর্ক না হয়ে আরো আগ্রাসী হয়ে, তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে

গত (৩১মার্চ) সে প্রতিদিনের মত সাফি নাহার স্কুলে গেলে, পূর্ব থেকে উৎ পেতা থাকা রাকিব ও তার সহযোগীরা সাফি নাহারকে জোরপূর্বক স্কুলের গেটের সামনে থেকে মাইক্রোতে তুলে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এবং এ বিষয়ে বখাটে রাকিবের মা-বাবা, আত্নীয়রা মামলা না করতে সাফির বাবা আলতাবকে ভয় ভীতি দেখাতে শুরু করে বলে আলতাব হোসেন জানান। এরপর আলতাব হোসেন তার আত্নীয় স্বজনদের সাথে আলোচনা করে গত (০৪ এপ্রিল) মহাদেবপুর থানায় মামলা করেন। মহাদেবপুর এজাহার নং-২/২৬ এবং জি আর নং- ৭৫/২৬ (মহা:) মামলার ১নম্বর আসামি বখাটে রাকিব  ছাড়া, সকল আসামিগন জামিন নিয়ে এসে, আরো বেপরোয়া হয়ে যায় এবং তারা বাদীর বাড়ীর কাছে গিয়ে, উচ্চস্বরে বলে,আর কোনদিন তোদের মেয়ের মুখও দেখতে পাবি না।সারা জীবনের জন্য হারালি তোদের মেয়েকে। আসামিদের এমন হুমকি-ধমকি ও কথাবার্তায় আরো ভেঙ্গে পড়েছেন আলতাব ও তার স্ত্রী। তাদের কান্না ও আর্তনাদ হয়েছে প্রতিদিনের সঙ্গি। তারা জানান,তার মেয়েকে এই বখাটে গুলো কোথায় রেখেছে, তার সাথে প্রতিদিন কি আচরণ করছে,তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে কি-না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এ বিষয়েও মহাদেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়ারিও করেছেন তারা যার জিডি নং-১১০৬, তাদের একমাত্র মেয়ের চিন্তায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে, মা-বাবা পাগল প্রায়, দিন দিন হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় একমাস গত হয়ে গেলেও মেধাবী স্কুল ছাত্রী সাফি নাহারকে উদ্ধার করতে পারে নি পুলিশ। স্কুলের শিক্ষকরা জানান,সাফি নাহার খুবই মেধাবী ছাত্রী, তার রোল নম্মরও-৫  স্বল্প নম্বরের ব্যবধানে তার রোল নম্বর-৫ হলেও, পড়াশুনায় ছিল অত্যন্ত মেধাবী। তাকে নিয়ে তারা খুবই আশায় ছিল, এসএসসিতে সে খুবই ভালো রেজাল্ট করবে এবং এই স্কুলের নাম উজ্জ্বল করবে। কিন্তু এক বখাটেই সকল আশা-আকাংখা চুরমার করে দিয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, ছেলেটার চলা-ফেরা একটুও ভালো নয়। এই এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলের মেয়েদের ডিসট্টাব করতো এবং একাধিকবার বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে তাকে,শাসন ও সতর্ক করতো। পাশের গ্রামের মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল বলেও জানা যায়। মাত্র কয়েকদিন আগে মেয়েটির মা-বাবা জানতে পেরে,তাদের মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছে। বখাটে ছেলে রাকিব নেশা-ভাংও করে, মেয়েটাকে তারা কি করছে,বেঁচে রেখেছে না-মেরে ফেলেছে তা একমাত্র উপরআলাই জানে।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানান, এখনো প্রধান আসামি গ্রেফতার ও ভীকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই,তবে প্রধান আসামীকে গ্রেফতারসহ ভীকটিমকে উদ্ধারে আমাদের জোরপ্রচেষ্টা অব্যহত আছে বলে জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন