মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাই কি কাল হলো ওসি মহিবুল্লার

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাই কি কাল হলো ওসি মহিবুল্লার



নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সোনারগাঁকে মাদক, ডাকাতি ও অপরাধমুক্ত করার প্রত্যয়ে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিবুল্লাহ্। 

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” ঘোষণা করেন এবং অপরাধ দমনে গ্রহণ করেন কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপ। তাঁর নেতৃত্বে সোনারগাঁ থানা পুলিশ শুধু মাদকবিরোধী অভিযানই নয়, ডাকাতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে রাতের বেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত টহল ও পাহারার ব্যবস্থা করে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম হয়ে থাকা মহাসড়কে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ। সোনারগাঁয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন—এমনটাই বলছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। একের পর এক অভিযান চালিয়ে বহু মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনা, বড় বড় চালান উদ্ধার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন সাহসী ও জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা। অনেকেই মনে করতেন, সোনারগাঁয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বই ছিল সবচেয়ে বড় ভূমিকা।

কিন্তু হঠাৎ তাঁর বদলির খবরে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা। সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—

“মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাই কি কাল হলো ওসি মহিবুল্লাহ্’র?”

তাঁর বদলির সময়টিও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যখন মাদক নির্মূল অভিযানে দৃশ্যমান সাফল্য আসছিল এবং অপরাধীরা অনেকটাই চাপে ছিল, ঠিক তখনই এই বদলির ঘটনায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, একজন সৎ, সাহসী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বিদায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে ব্যথিত করেছে।

অনেকের ধারণা, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে প্রভাবশালী কোনো মহলের স্বার্থে আঘাত লেগে থাকতে পারে। কারণ, মাদক ব্যবসা ও অপরাধ জগতের বিরুদ্ধে তিনি কখনোই আপস করেননি। ফলে তাঁর এই বদলির পেছনে নানামুখী চাপ বা অদৃশ্য প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে যারা সততা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। কারণ একজন ন্যায়নিষ্ঠ কর্মকর্তার সাহসী ভূমিকা শুধু অপরাধ দমনেই নয়, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকেও রক্ষা করে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এমন কর্মকর্তাদের অবদান সবসময়ই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সোনারগাঁবাসীর বিশ্বাস, দায়িত্বে থাকুন বা না থাকুন—ওসি মহিবুল্লাহ্’র সাহসী পদক্ষেপ, অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন মনোভাব এবং জননিরাপত্তায় তাঁর অবদান মানুষের মনে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ সত্যিকারের জনসেবক কখনো পদে নয়, মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন