ওসির ব্যক্তিগত রোষানলে বৈষম্য বিরোধী মামলায় কারাগারে বিএনপি নেতা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোমেন নামের এক বিএনপি নেতাকে স্থানীয় কিছু চক্রের সাথে আঁতাত করে সুবিধা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি মাহবুবুর রহমানের রোষানলের শিকার হয়ে বিনা দোষে বৈষম্য বিরোধী মামলাসহ একাধিক মিথ্যা মামলায় আসামি বানিয়ে কারাগারে পাঠানো অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মোমেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন কাচপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে ২০০৮ইং সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সালু।
অভিযুক্ত জেলা গোয়েন্দা বিভাগের সেই ওসির নাম মাহবুব হোসেন। তিনি বর্তমানে ফতুল্লা থানায় কর্মরত রয়েছেন।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির দেয়া তথ্য সূত্র জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোমেন দীর্ঘদিন যাবত বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বিগত আওয়ামী অ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একাধিক মামলা-হামলার শিকার হয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০২৩ ইং সালের তৎকালীন সোনারগাঁও থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মোমেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নং ৩৫/১০-২৩ সেই মামলার ১ নং ও ২নং আসামি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ- ৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আজারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া এবং একাধিক সাবেক ৪ বারের সংসদ সদস্য জনাব আতাউর রহমান আঙ্গুর।
একই থানাধীন ২০২১ ইং সালে সাব্বির হোসেন ওরফে মোমেনকে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে সরকারি কাজে বাধা প্রদান,মারধর,ভাঙচুর সহ সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা সহ তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেয়া হয়, মামলাগুলো হলো, সোনারগর থানা মামলা নং ৩৩/৪- ২০২১ ইং, একই থানার মামলা নং ৭/৪- ২০২১, ১/৩- ২১ ও ৭/৬- ২১ ইং। এছাড়াও তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে আরোও বেশ কয়েকটি মামলা দেওয়া হয়েছিলো।
পরবর্তীতে ২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বেশ কয়েকবার রদবদল হলে, রদ বদলের এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখায় ওসি হিসেবে মাহবুব হোসেন যোগদান করেন।
যোগদানের পর ওসি মাহবুব মোমেনকে তার সাথে দেখা করতে বলেন এবং তার নির্দেশ মোতাবেক কাজ করতে বললে এতে মোমেন অস্বীকৃতি জানালে ওসি মাহাবুব তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুর এলাকার স্থানীয় কিছু বিএনপির নামধারী সুবিধাবাদী রাজনৈতিক অসাধু ব্যক্তির সাথে আঁতাত করে কোনরকম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ ছাড়াই গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে মোমেনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জেল হাজতে থাকাকালীন অবস্থায় একের পর এক বৈষম্য বিরোধী মামলাসহ অন্যান্য মিথ্যা মামলায় এজাহারে নাম না-থাকার পরেও মোমেনকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেল হাজতে থাকতে বাধ্য করেন ওসি মাহবুব। বর্তমানে মোমেন ঐসকল মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা ভয়ভীতি ও আতংকের মধ্যদিয়ে জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছে মোমেনের পরিবার।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর যেসকল মামলায় মোমেনকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে, সেই মামলাগুলো হলো, ১। সোনারগাঁ থানা মামলা নং ১৮/৮- ২৪, ২। ৯/৭- ২৫, ৩। ৫/৬- ২৫, ৪। ২৪/৯- ২৪, ৫। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলা নং- ৩৭/৫- ২৫, ৬। ২৯/৯- ২৪, এবং ৭। রূপগঞ্জ থানা মামলা নং- ১০/১১- ২৪।
উপরে উল্লেখিত যে মামলাগুলোতে মোমেনকে আসামি করা হয়েছে তার একটি মামলার এজাহারেও মোমেনের নাম উল্লেখ ছিলোনা। সুতরাং এতেই প্রতিয়মান হয় যে, ওসি মাহবুব তার ব্যক্তগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্র করে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই মিথ্যা মামলাগুলো মোমেনের বিরুদ্ধে দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে আরোও জানা গেছে, বিগত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ইং, সালে ওসি মাহবুব কর্তৃক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সচেতন মহল মনে করেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অন্যায় ভাবে পুলিশকে দিয়ে যেভাবে মিথ্যা মামলা হামলা এবং বিএনপি সহ বিভিন্ন দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিলো, বর্তমান ২৪ পরবর্তী সময়ে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি খুবই দুঃখজনক।
তাই বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে যদি পুলিশের এই ধরনের অনিয়ম, দূর্নীতি ও অপকর্ম চলমান থাকে তাহলে সরকারের প্রতি সাধারণ জনগণ ও দেশবাসীর আস্থা হারাবে।
সচেতন মহল ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবী এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি ও বর্তমান ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগী মোমেনের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির সরকারি মুঠো ফোনে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির সাবেক ওসি মাহবুব হোসেনকে ফোন দিয়ে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোমেনের মামলা দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবেন। তাছাড়া মোমেন হলো একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। বিএনপি অথবা কোনো দলের কিনা সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তাকে শুধু গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেছিলাম। আর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সে বিষয়ে আপনারা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সাথে কথা বলতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সালু জানান, মোমেন একজন বিএনপির সক্রিয় নেতা এবং সাবেক সোনারগাঁও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় তিনি দলীয় বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন এবং দলের জন্য কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় কিসের ভিত্তিতে মামলা দেয়া হলো তা আমার বোধগম্য নয়। মোমেন বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক। সেজন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে আমরা তাকে একটা প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেছি এবং সে যাতে শীঘ্রই এ সকল মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পায়, সেজন্য আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করবো বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী মোমেনের ভাই মামুন প্রধান জানান, আমরা বিএনপি করি দীর্ঘদিন যাবত। আমার ভাইকে বৈষম্য বিরোধী মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে জেল খাটাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল। আমরা সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আমার ভাইকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি সহ জামিনে মুক্ত দেয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
