নাটোর প্রতিনিধি : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকদের বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চার নারীসহ আট রুশ নাগরিক এবং দুই গাড়ির চালক-হেলপারসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন (২২) নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের হেলপার ছিলেন।
আহত রুশ নাগরিকদের উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ নাগরিকদের বহনকারী একটি বাস ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাক দুটিই দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালকের সহকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, রুশ নাগরিকদের বহনকারী বাস দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের ঈশ্বরদীর রুশ পল্লিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে রুশ নাগরিকেরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলী জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
