আমিনুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের বাংলা বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় কলেজের বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বর্তমান ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. সাইফুদ্দীন এমরান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের প্রভাষক মো. মোহাইমিনুল ইসলাম এবং মো. মতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা উপহার ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় প্রধান মো. সাইফুদ্দীন এমরান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই বিদায়ের মুহূর্ত কোনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন জীবনের সূচনা। আজ তোমাদের অনার্স জীবনের শেষ দিন। আগামী দিনে তোমাদের পরিচয় হবে কর্ম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্বশীল থেকে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের সাফল্যই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না। কলেজ থেকে বিদায় নিলেও এই বিভাগ সবসময় তোমাদের আপন ঠিকানা হয়ে থাকবে। জীবনের যেকোনো প্রয়োজনে তোমরা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"
প্রভাষক মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, "চার বছরের পথচলায় তোমাদের সঙ্গে অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ক্লাসরুমের পাঠ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, পরীক্ষা ও নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তোমাদের বেড়ে ওঠা আমরা খুব কাছ থেকে দেখেছি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, অধ্যবসায় ও মানবিকতাকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে—এই প্রত্যাশা করি।"
প্রভাষক মো. মতিউর রহমান বলেন, "আজকের এই বিদায় আবেগের হলেও এটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। স্বপ্ন দেখতে হবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নিজেদের পরিবার, বিভাগ ও কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস।"
বিদায়ী শিক্ষার্থী মো. হাবিবুর রহমান বলেন "চার বছরের অনার্স জীবন যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল। এই বিভাগ আমাদের শুধু পাঠ্যজ্ঞানই দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং জীবনের মূল্যবান শিক্ষা। প্রিয় শিক্ষকদের স্নেহ, সহপাঠীদের হাসি-কান্না, ক্লাসরুমের প্রতিটি মুহূর্ত আজ স্মৃতির পাতায় জায়গা করে নিল। কলেজ ছেড়ে গেলেও বাংলা বিভাগ সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবে।"
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী একসঙ্গে স্মৃতিচারণ, ফটোসেশন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বিদায়ের আবেগ, কৃতীদের সম্মাননা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক মিলনমেলায় বাংলা বিভাগের এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

