ফুলবাড়ীতে স্বামীর হামলায় গৃহবধূ নিহত; ‘বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’—ছেলের আকুতি


আমিনুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার স্বজনপুকুর বুন্দিপাড়া গ্রামে স্বামীর হামলায় কুলসুম আক্তার মিমি (২৯) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী মানিক হোসেন (৩৭)কে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত কুলসুম আক্তার মিমি স্বজনপুকুর বুন্দিপাড়া গ্রামের মৃত হবিবর রহমান ও মেহরন বেগমের মেয়ে। অভিযুক্ত মানিক হোসেন পূর্ব গৌড়িপাড়া গ্রামের মতিন রহমানের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতেই ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মানিক হোসেন ঘরের একটি খুন্তি দিয়ে কুলসুমের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলেও পরিবারের দাবি।

নিহতের বড় ছেলে জানায়, গভীর রাতে তার বাবা বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ঘরের খুন্তি দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলেও তার দাবি। তিনি প্রতিবেশীদের ডাকতে গেলে তার বাবা প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে তার কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

স্থানীয়দের দাবি, তারা অভিযুক্তকে হাতে খুন্তি নিয়ে ঘরের সামনে দেখতে পান। খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের বড় ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার মায়ের হত্যার সঠিক বিচার হোক।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পেশায় কসাই হলেও মানিক হোসেনের আয় ছিল সীমিত। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে কুলসুম আক্তার মিমি তিন সন্তানকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। তার উপার্জনেই অনেকটা চলত পরিবারের খরচ।

মায়ের মৃত্যুর পর তিন শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে। যে মায়ের পরিশ্রমে সংসারের চাকা ঘুরত, সেই মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুদের লালন-পালন, লেখাপড়া এবং দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় কীভাবে চলবে—এ প্রশ্ন এখন স্বজনদের। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ সহায়তা না পেলে তিন শিশুর জীবন অনিশ্চয়তার পাশাপাশি অভাব-অনাহারের ঝুঁকিতেও পড়তে পারে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পারিবারিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন