আব্দুল মজিদ, নাটোর : নাটোরের গুরুদাসপুরে টেন্ডার ছাড়াই মাদরাসার ১১টি মেহগণি গাছ নামমাত্র মুল্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সভাপতি-সুপারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও দৃশ্যমান কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর এনইউএস দাখিল মাদরাসায় গত ঈদুল আজহার ছুটিতে ১১টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই গোপনে মাত্র ৯০ হাজার টাকা দামে গাছগুলো বিক্রি করা হয়। পাশের মামুদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম ১৫-২০ বছর বয়সী গাছগুলো কিনে নেন। ছুটির মধ্যে গাছগুলো তিনি কেটে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে তাদেরকে গাছ নিতে বাধা দেন। একই সাথে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এর মাস দুয়েক আগেও তারা একই ভাবে আরো সাতটি মেহগণি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছ কাটার এক মাস পরেও স্থানীয়দের বাধায় সাতটি গাছ মাঠেই পড়ে আছে। তবে বাঁকি চারটি গাছের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, বিনা টেন্ডারে গাছগুলো বিক্রিতে যথেষ্ঠ গোপনীয়তা রাখা হয়েছে। গাছগুলোর দাম কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হবে। কিন্তু সভাপতি-সুপার মাত্র ৯০ হাজার টাকার কথা স্বীকার করছেন। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকাগুলো তারা নিজেরা আত্নসাৎ করছেন বলে তাদের দাবি।
এ ব্যাপারে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, কমিটির সাথে পরামর্শ করে গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা টেন্ডার দেয়া হয়নি। তবে কমমূল্যে গাছ বিক্রির অভিযোগটিও সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গাছগুলো কাটার জন্য ইউএনও’র কাছে মৌখিতকভাবে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তিনি অনুমতি দেননি। এখন দলীয় সরকার আসায় সাহস করে গাছগুলো কেটেছিলাম। কিন্তু সেটা আমাদের ভুল হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
.jpg)