দেশের চিকিৎসা খাতে নতুন প্রযুক্তির সংযোজন ঘটিয়ে ঢাকায় যাত্রা শুরু করল অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র ‘রিজেনেক্স পেইন সলিউশন বাংলাদেশ’। জয়েন্টের ব্যথা, অটোইমিউন রোগ এবং অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আধুনিক ‘রিজেনারেটিভ মেডিসিন’ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত প্রতিষ্ঠানটির ‘সফট লঞ্চিং’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি এশিয়ার প্রথম আইএসও সার্টিফাইড ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিজেনারেটিভ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে কোনো ধরনের বড় অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীর শরীরের নিজস্ব কোষ ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট ডা. মনজুর এ খোদা বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস ও অটোইমিউন রোগে ভুগছেন। উন্নত বিশ্বের আধুনিক ও নন-সার্জিক্যাল (অস্ত্রোপচারবিহীন) চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, রিজেনেক্স-এর চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা, এক্সোসোম, বোন ম্যারো কনসেনট্রেট ও মাইক্রো ফ্যাট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি, পালসড ম্যাগনেটিক ওয়েভ ও রোবটিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীর শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোসার্জন অধ্যাপক আখলাক হোসেন খান, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আবেদ আলীসহ দেশি-বিদেশি চিকিৎসক ও কূটনীতিকরা।
অনুষ্ঠানে রিজেনেক্স ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ব্যথায় ভোগা অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির বিস্তার দেশের রোগীদের জন্য নিরাপদ বিকল্প চিকিৎসার পথ উন্মুক্ত করবে এবং রোগীদের দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনবে।
