বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ে প্রথমবার ‘SEERAH 360° Exhibition 2026’ আয়োজন


ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানব ও সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আদর্শ নেতা মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবন, শিক্ষা ও আদর্শকে শিশুদের কাছে আধুনিক, আকর্ষণীয় ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক উপায়ে তুলে ধরতে বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘SEERAH 360° Exhibition 2026’।

রাজধানীর ডেমরার মাতুয়াইলে অবস্থিত Wafaa Hifz International School-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনীতে মহানবী ﷺ-এর জীবন ও কর্মের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো শিশুদের উপযোগী এবং দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্ম, শৈশব, কৈশোর ও যৌবন, নবুওয়াত লাভ, মক্কায় দাওয়াত ও নির্যাতন, হিজরত, মদিনার জীবন, রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা এবং বিদায় হজ পর্যন্ত বিভিন্ন অধ্যায় স্থান পেয়েছে।

আয়োজকদের মতে, সীরাতকে শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশুদের সামনে উপস্থাপন করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য প্রদর্শনীতে ব্যবহার করা হয়েছে 360° Diorama, 3D Visual, Video Presentation, Audio-Visual Content এবং বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ উপস্থাপনা।

এসব উপকরণের মাধ্যমে মহানবী ﷺ-এর জীবনের ঘটনাগুলো শিশুদের কাছে আরও সহজ, জীবন্ত ও বোধগম্য করে তুলে ধরা হয়েছে।


নৈতিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য হলো শিশুদের মাঝে সততা, আমানতদারিতা, ধৈর্য, দয়া, ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ, মানবসেবা এবং নেতৃত্বের মতো মূল্যবোধ গড়ে তোলা।

আয়োজকরা জানান, সীরাত শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ঐতিহাসিক তথ্য জানা নয়; বরং মহানবী ﷺ-এর জীবন থেকে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা গ্রহণ করা।

‘School of Leaders’ ধারণার বাস্তবায়ন

Wafaa Hifz International School-এর শিক্ষা দর্শনের অন্যতম অংশ হলো “360° Holistic Development” এবং “School of Leaders” ধারণা।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, একজন শিশুর বিকাশ শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক, মানসিক ও নেতৃত্বগুণের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য থেকেই সীরাত শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

মদিনার সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার শিক্ষা

প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মহানবী ﷺ-এর মদিনা পর্বের জীবন ও নেতৃত্বকে। সেখানে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন, সামাজিক সংহতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, অধিকার রক্ষা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে চুক্তি ও সহযোগিতার বিষয়গুলো শিশুদের উপযোগীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন