নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)'র দুই নেতাসহ তিনজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি'র ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ ঘটিকার সময় সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা, এ হামলায় দুই এনসিপি নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ওমর ফারুক, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী সাগর মল্লিক (২৮) এবং তার মামা মোক্তার হোসেন (৫২) আহতদের মধ্যে মোক্তার হোসেনের ও ওমর ফারুকের অবস্থা আশংকাজনক।
উক্ত ঘটনায় সাগর মল্লিক বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, অভিযোগে উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদির জিলানী, বিএনপি কর্মী রবিন ওরফে বাংলা রবিন (২৮), জন্টু (২৯), বিএনপি কর্মী ফরিদ (২৪), ফরহাদ (২২), মোঃ সোহেল (৩০), মোঃ আলী (২৯), নাজমুল (২৩), আল আমিন (২২), জাকির (৩৫), জাহাঙ্গীর (৩৫), কিরন (৪০) এবং আমির হোসেন (২৯)কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে বুধবার রাত ১১টার দিকে নাসিকের ১ নং ওয়ার্ডের হীরাঝিল এলাকার স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন এনসিপির নেতারা, এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে এসে উস্কানীমূলক কথাবার্তা বলতে থাকলে একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বুধবার রাতে প্রথম দফায় হামলার পর, বৃহস্পতিবার বিকেলেও একই এলাকায় আবারও হামলা চালানো হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।
এ বিষয়ে সাগর মল্লিক বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তারা আমাদের কথার মধ্যে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতা ওমর ফারুক জানান, হামলাকারীরা মূলত এই এলাকার সুবিধাভোগী একটি সংঘবদ্ধ চক্র, তারা নিজেদের বিভিন্ন দলের বড় মাপের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেই রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অত্র এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুতই গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
