আন্তর্জাতিক ডেস্ক (ডেইলি নিউজ) : ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড অভ্যন্তরীণ অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে লোহিত সাগর এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাহাজটিকে মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটির দিকে পাঠানো হচ্ছে। গত প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে টানা মোতায়েন এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ফলে জাহাজটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে রণতরিটির লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে। এতে ধোঁয়ার প্রভাবে প্রায় ২০০ নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত একজনকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০টি শয্যা এবং লন্ড্রি সুবিধা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া জাহাজটির অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই রণতরীতে টয়লেট ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শত শত নাবিককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে নাবিকদের মধ্যে অস্বস্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর Mark Warner। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের চাপ ও পরিস্থিতি নাবিকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই রণতরী। এতে থাকা বহু যুদ্ধবিমান ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনা করা হয়। ফলে জাহাজটি সরিয়ে নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় সাময়িক শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প হিসেবে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড-কে ওই অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে অত্যাধুনিক এই রণতরী কবে আবার পুরোপুরি সক্ষমতা নিয়ে কাজে ফিরতে পারবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
