এ,বি,এম,হাবিবুর রহমান : নওগাঁর মান্দায় এক বয়ক্স মহিলাকে স্বামী ও বাচ্চার সামনে ঘর থেকে টানা-হেচড়া করে বের করে অস্বাভাবিক ভাবে নির্যাতন ও মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহিলাটি আত্নরক্ষার্থে বার বার পাশের বাড়ীতে,কখনো নিজের বাড়ীতে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলেও দুস্কৃকারীরা দরজা ভেঙ্গে কখনো প্রচীর উপর দিয়ে উঠে আবার তাকে বের করে, বড়ই গাছের সাথে বেঁধে অস্বাভাবিক ভাবে মারপিট ও নির্যাতন করেছে সন্ত্রাসীরা। এ বিষয়ে বাদী হয়ে ভুক্তভোগী মমতার স্বামী ভুপেশ চন্দ্র মন্ডল মান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের ভুপেশ চন্দ্র মন্ডলের সাথে ভাগ-ভাগি ও আশেপাশের লোকজনের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমি সংক্লান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
গত রবিবার (২৬এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১ টার সময় জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিজেদের ভাগভাগি ও আশেপাশের লোকজনরা মিলে গালা-গালি করছিল। এমন সময় বৃদ্ধ ভুপেশ ও তার স্ত্রী সমতা তাদেরকে রাতের বেলায় গালি-গালাজ করতে নিষেধ করলে,এমন সময় দূস্কৃতিকারীদের মধ্যে ১ নম্বর আসামি দীলিপ হুকুম দিলে, সবাই মিলে ওই রাতেই ভুপেশের বাড়ির দরজা ভেঙ্গে বৃদ্ধ স্বামী ও ১১বছরের বাচ্চার সামনে ঘর থেকে টানা-হেচড়া করে বের করে, অন্য বাঁকী আসামিরা তাদের ঘরের সাব বক্সের তালা ভেঙ্গে সেখানে রাখা ৩৫ হাজার টাকা ও কৌটার মধ্যে রাখা স্বণালংকার লুট করে নেয়। স্বর্ণালংকারের কৌটা নিয়ে মমতার সাথে টানা টানির এক পর্যায়ে, মমতা তাদের কাছ থেকে কৌটাটি নিতে সক্ষম হলে,তার স্বামী ভুপেশকে দেয়, কিন্তু আসামিরা মিলে খুব সহজেই তার বৃদ্ধ স্বামী ভুপেশের কাছ থেকে, স্বর্ণালংকারের কৌটা খুব সহজেই নিয়ে নেয় বলে বৃদ্ধ ভুপেশ সাংবাদিককে জানান। এরপর মমতাকে বের করে নির্মম ভাবে নির্যাতন ও মারপিট করতে লাগে। তাদের চিৎকারে আকাশ ভারি হয়ে উঠলেও পাসন্ডদের মনে দয়া হয় নাই। উপায় না পেয়ে দৌড়ে পাশবর্তী বাড়ীতে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলে,সন্ত্রাসীরা উপরে টিন ফাঁকা করে ঘরে প্রবেশ করে তাকে বের করে,আবারও মারপিট করতে শুরু করে। ভুক্তভোগী মমতা জানায়, এতো অনুরোধ করেছি,এতো চিৎকার করেছি, তার ১১ বছরের বাচ্চা কান্নায় গড়াগড়ি খাচ্ছে কিন্তু তাদের মনে একটুও দয়া হয় নি। মারপিট সহ্য করতে না পেরে,সে সুযোগ বুঝে আবারও দৌড় দিয়ে তার নিজের বাড়িতে ঢুকে খিল লাগিয়ে দিলে,আসামিরা আবারও দরজা ভেঙ্গে তাকে বের নিয়ে, আবারও বড়ই গাছে বেঁধে নির্যাতন করা শুরু সেখানে তার জ্ঞান হারিয়ে গেলে আর কিছু বলতে পারে না সে। বৃদ্ধ ভুপেশ চন্দ্র জানায়,ভয়াল রাত কাকে বলে,সেটা ঐ রাতে আমরা অনুধাবন করেছি। তার স্ত্রী আত্নরক্ষায় যেবাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়,সেখানেই ভেঙ্গেচুরে সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রীকে বের করে নিয়ে আসে এবং একজন মহিলাকে তারা অস্বাভাবিক নির্যাতন ও মারপিট করে। সেই রাতে পুরোটা গ্রাম ছিল আতংকে। কেউ ভয়ে এগিয়ে আসতে পারে নি। তার স্ত্রী জ্ঞান হারানোর পরও সন্ত্রাসীরা মারধর করেছে বলে জানান। এরপর সন্ত্রাসীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে গেলে । পরবর্তীতে সে তার বাচ্চা ও অন্য দু,জনের সহযোগীতায় তার স্ত্রীকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এবং পরের দিন মান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে আসমিদের স্ত্রী ও তাদের লোকজনরা বলে,মমতা নামের মহিলাটি অনেকদিন থেকে খারাপ কাজে জড়িত,তাই তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এমন ভাবে পিটিয়েছে। এ বিষয়ে আপনারা তার ঘরে বা বাহিরে হাতে-নাতে ধরেছেন কোনদিন,বা এ বিষয় নিয়ে গ্রামের লোকজন নিয়ে বসেছেন বা তাকে সতর্ক, সাবধান করা হয়েছে কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান, মেম্বার কাউকে জানিয়েছেন অথবা থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তারা চুপ হয়ে যায় এবং কেউ কেউ বলে, না এগুলো আগে কখনো করা হয় নাই। এবং এই মারধরের বিষয়টি বড়ই অন্যায় হয়েছে বলে তারা স্বীকার করে। এবং বিষয় আপোষ করার চেষ্টা করছে, একাধিক আসামিরা স্বীকার করে বলে,তার পা ধরে ক্ষমা চাইতে হলেও চাইবো, বিষয়টি আপোষের চেষ্টা করছে বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে মান্দা থানার এস আই এরশাদ জানান, অস্বাভাবিক নির্যাতনের বিষয় গুলো সঠিক কিন্তু স্থানীয়রা শুনলাম আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করছে। অন্য দিকে ভুপেশ চন্দ্র মন্ডল জানান,২৬ তারিখের ঘটনা ২৭ তারিখে অভিযোগ করেছি,,থানা তদন্ত করেছেন কিন্তু এজাহার করে নাই। তাই বাধ্য হয়ে নওগাঁ কোর্টে মামলা করছি। এখন তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচারের আশা করছেন।
