আব্দুল মজিদ, নাটোর : নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাঁর দ্রুত বদলির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল— “বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঁচাও” এবং “শিক্ষাঙ্গনে অত্যাচার আর নয়, আর নয়”।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করে আসছেন। সামান্য ভুলত্রুটিতেই তিনি শিশুদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায় এবং লেখাপড়ার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক মুজিবুর রহমান বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে গালিগালাজ করা কোনো শিক্ষকের শোভা পায় না। শুয়োরের বাচ্চা, জানোয়ারের বাচ্চা, হিজড়া, ছোটলোকের বাচ্চা—এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন ওই শিক্ষিকা। আমরা এমন শিক্ষিকাকে এই বিদ্যালয়ে চাই না। দ্রুত তাঁর বদলি চাই।”
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মাজেদুর রহমান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলাম। আমার দায়িত্বকালে শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়েছে। তিনি বদমেজাজি স্বভাবের। বহুবার সতর্ক করার পরও তাঁর আচরণের পরিবর্তন হয়নি।”
অভিভাবক সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সন্তানদের গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখান।”
এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, “আমার ছেলেকে ছোটলোকের বাচ্চা বলে গালিগালাজ করেছেন। আমার স্বামী বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেন এবং মামলার ভয় দেখান। শুধু আমাদের নয়, অনেক অভিভাবকই তাঁর আচরণে হয়রানির শিকার হয়েছেন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজা উদদৌলা টিটু বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে মোট পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবকরা প্রায়ই এসে অভিযোগ করেন। তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি। এ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং তাঁকে শোকজও করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার জায়গা। সেখানে কোনো শিক্ষকের অশোভন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার বদলির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
