- প্রশংসায় ভাসছেন সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন
হাফেজ নজরুল, কুমিল্লা : কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আরসি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেতুটির নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ায় আনন্দে ভাসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে পূরণ হতে যাচ্ছে শত বছরের স্বপ্ন।
জানা গেছে, প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। রোববার বিকেলে সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ধনপতিখোলা থেকে কালারাইয়া, রোয়াচালা হয়ে সড়কটি দৌলতপুর মেইন রোডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পথে চলাচলের জন্য স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা ছিল বাঁশের সাঁকো। বর্ষাকালে সাঁকো পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো এলাকাবাসীকে। সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তারা।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি হাজী তৈয়ব আলী বলেন, “আমার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ভাষা নেই। সারা জীবনের আকাঙ্ক্ষা ছিল এখানে একটি সেতু হবে। আলহামদুলিল্লাহ, রুহুল আমিন চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় আমাদের শত বছরের কাঙ্ক্ষিত সেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে।”
স্থানীয় কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “আমাদের ভাগ্য ভালো যে রুহুল আমিন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে এই সেতুটি পেয়েছি। কোনোদিন ভাবিনি এখানে সেতু হবে।”
গৃহবধূ সুভা রানী ঘোষ বলেন, “শত বছরের সাধনার এই সেতুটি রুহুল আমিন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পেয়েছি। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখুন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “আমাদের দেশে সাধারণত ছেলেমেয়েরা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়। কিন্তু সেতু না থাকায় আমাদের এলাকার অনেক শিশুকে আট বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি করতে হয়েছে। ফলে পড়াশোনায় আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক পিছিয়ে আছে। এই সেতু বাস্তবায়নের ফলে আমাদের শত বছরের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।”
৮৫ বছর বয়সী গৃহবধূ হাসু রানী বলেন, “আমার এই বয়সে কত মেম্বার, চেয়ারম্যান দেখলাম। কেউ সেতুটি করতে পারেননি। জীবনে এই সেতু দেখে যেতে পারব, সেটি কখনো ভাবিনি। রুহুল আমিন চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।”
এ বিষয়ে বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, “এলাকাবাসীর শত বছরের স্বপ্ন ছিল এই সেতু। এর আগে অনেকে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারেননি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের স্বপ্নের এই সেতু নির্মিত হচ্ছে। এভাবেই মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। এজন্য এলাকাবাসীর দোয়া চাই।”
সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ধনপতিখোলা, কালারাইয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
